শীর্ষ ৭ ধনী রাষ্ট্রে শ্রমিক পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

‘কূটনীতিক, জনশক্তি রপ্তানিকারক, আমলা এবং নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হলে বিশ্বের শীর্ষ ৭ ধনী রাষ্ট্রে শ্রমবাজারে ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

 

 

 

এ বিষয়ে জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “উন্নত দেশের শ্রমবাজারকে লক্ষ্য করে তরুণদের তৈরি করতে বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান জরুরি।” সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির জনসংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।

 

 

 

পাশাপাশি করোনাভাইরাস মহামারির পর দেশটির শ্রমবাজারে দক্ষ শ্রমিকদের ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে। এ কারণে ইউরোপীয় দেশটির শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশিরা শ্রমের প্রয়োজনের একটি নির্দিষ্ট অংশ পূরণ করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

 

 

 

 

বাংলাদেশিদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য জার্মানি ও বাংলাদেশের স্টেকহোল্ডারদের প্রস্তাব দেন তিনি।

 

 

 

একইসঙ্গে জার্মানিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশিদের অবশ্যই জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন এ রাষ্ট্রদূত। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ২,২৭৫ জন শ্রমিক দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

 

দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমবাজারে প্রবেশ করার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪১,৮৬৮ জন শ্রমিক পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জাং-কেউন বলেন, “প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ওই দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি শেখা খুবই জরুরি।”

 

 

 

 

 

দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত সাবেক এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বলেন, “নেপালের শ্রমিকরা দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালো বোঝে।

 

 

 

 

এ কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের চাহিদাও বেশি। প্রাসঙ্গিক সেক্টরে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতিতে যথাযথভাবে দক্ষ হয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকরাও নিজেদের চাহিদা বাড়াতে পারে।”

 

এদিকে, দহমশি গ্রুপের চেয়ারম্যান নোমান চৌধুরী বলেন, “উন্নত দেশের শ্রমবাজারকে লক্ষ্য করে তরুণদের দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সরকারের উচিত বিভাগীয় শহরে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা।

 

 

 

কারণে কোনো দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশের সময় শ্রম রপ্তানির প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “জার্মানি ও জাপানের জনসংখ্যা কমছে।

 

 

আমাদের দেশের তরুণরা নিজ নিজ সেক্টরে সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হতে পারলে বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর শ্রমবাজার দখল করতে পারবে।” ১৯৯৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ২,২৩২ জন কর্মী জাপানে পাঠানো হয়েছে, যা মোট জনশক্তি রপ্তানির মাত্র ০.০২%।

 

 

 

নোমান চৌধুরী বলেন, “অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্কৃতি ও ভাষা শেখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

 

 

 

যে জাপানে যাবে তাকে অবশ্যই জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শিখতে হবে। যে ব্যক্তি জার্মানিতে যাবে তাকে অবশ্যই জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি শিখতে হবে।” বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের শীর্ষ ৭ ধনী রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর জাপানে জনশক্তি রপ্তানি নির্ভরশীল।

 

 

 

কোভিড মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় জাপানে শ্রম রপ্তানি শুরু করেছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির প্রশিক্ষণ অপারেশনের মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ ২১০ জন কর্মীকে জাপানে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

 

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীর খায়রুল আলম বলেন, “প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি যুবককে জাপানি ভাষায় প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।” তাছাড়া, শিল্পোন্নত বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার জনশক্তির উচ্চতর প্রশিক্ষণের দিকে নজর রাখছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

 

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ট্রেনিং অপারে শনের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. সালাহ উদ্দিন জানান, জাপানের শ্রমবাজারে চাহিদা বাড়াতে বিএমইটি-এর অধীনে  সারাদেশে প্রায় ৩০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ  কেন্দ্রের (টিটিসি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর ৬ মাসের কোর্সের সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

মো. সালাহ উদ্দিন জানান, করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ এবং ২০২১ সালে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ সহজে প্রবেশ করতে পারেনি। তবে বর্তমানে মহামারি পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় আগামী এক বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে জনশক্তি রপ্তানির উন্নতি হবে।

 

 

 

তবে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জনশক্তি রপ্তানিকারকের দাবি, বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানির জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ও পাঠদান পদ্ধতির উন্নতি প্রয়োজন। পাশাপাশি এ বিষয়ক কোর্সের মেয়াদ ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো উচিত।

 

 

 

মিরপুরের দারুসসালামে বাংলাদেশ-কোরিয়া টিটিসির অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান বলেন, “প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কোর্স পরিচালনা করছেন।

 

 

 

২০১৭ সালে পুনরায় শুরু হওয়া ৬ মাসব্যাপী কোর্সগুলোর জন্য প্রতি ব্যাচে ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কোর্সগুলো ফি মাত্র এক হাজার টাকা।

 

 

 

” ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, “জন্মহার এবং দক্ষ জনসম্পদের অভাবে জাপানের কিছু শিল্পে শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। জাপান সরকার বিশ্বাস করে যে ভবিষ্যতে শিল্প প্রবৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত মানবসম্পদ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *